নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার (২৬শে ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে মাস্তুল ফাউন্ডেশন এবং আল যাকাত সাদাকা ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত হয়েছে ‘যাকাত কনফারেন্স-২০২৫’।
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মাস্তুল ফাউন্ডেশন ও আল যাকাত সাদাকা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সারাদিন ব্যাপি ৩ টি সেশনে বিভক্ত হয়ে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত ইসলামিক স্কলারগণ, সরকারী একাধিক কর্মকর্তাবৃন্দ, সমাজসেবীরা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, ডক্টরগণ এবং মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর সকল দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত হয়েছেন।
২০২৫ এর যাকাত সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে আলোচনা করা হবে কিভাবে যাকাতের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্যতা বিমোচন করা যায়। বিগত ৬ বছর ধরে এই বিষয় নিয়ে মাস্তুল ফাউন্ডেশন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র বিমোচন ও মানবিক উন্নয়নে যাকাতের কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য ভূমিকা তুলে ধরা ও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা। যাকাতের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, যাকাতের মাধ্যমে কি ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়। যাকাতের ফরজিয়ত ও গুরুত্ব, যাকাতের শুদ্ধ অনুশীলন ও প্রসার, যাকাতের হিসাব ও পরিমাণ নির্ধারণ, যাকাতের আধুনিক প্রয়োগ, যাকাত বিতরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর্মশালা।
সম্মেলনে আলোচক এবং অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা সচিব মোঃ সাইদুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব ইসরাত হোসেন খান, মসজিদ-উত-তাকওয়ার ইমাম ও খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম, হাজী মফিজুর রহমান ট্রাষ্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতী গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, আন-নূর জামে মসজিদ টঙ্গী ও দৈনিক আমার দেশের সহসম্পাদক শায়খ আলী হাসান তৈয়ব খতিব, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র ও ডিন কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ অলী উল্যাহ, ইসলামিক পণ্ডিত এবং শিক্ষক, উপস্থাপক মুহাম্মদ আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী, নূরুন আলা নূর ইসলামিকের চেয়ারম্যান, কলামিস্ট, লেখক শায়খ মাসুম বিল্লাহ বিন রেজা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ম্যাসকো গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার নাজমুল হুদা আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এর অধ্যাপক ডঃ মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, সেন্টাল ফর যাকাত ম্যানেজম্যান্ট এর এজিএম ওয়াইস খান নূর সোহেল, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডক্টর জামিল আহমেদ, বিআরটিএ-এর ডিরেক্টর(যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী, এভারকেয়ার হসপিটালের প্রফেসর ডক্টর রায়হান হোসেন, জেড এইচ সিকদার মেডিকেল কলেজ ও হসপিটাল এর প্রফেসর ডক্টর গোলাম নবিসহ প্রমুখ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বলেন - বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ, এবং আমরা যাকাতের সঠিক ও সুবিচারপূর্ণ বিতরণ যত ভালোভাবে করব, ততই দেশের দরিদ্র মানুষ আরও ভালো জীবনযাপন করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর মতো এমন হাজারো সংগঠন গড়ে উঠুক, যারা দেশের দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে, এবং তাদের হাত ধরে এই দেশ একদিন দারিদ্রমুক্ত হবে।
ইমাম ও খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের যাকাত দেওয়ার উদ্দেশ্য এমন হতে হবে, যে ব্যক্তি আজ যাকাত গ্রহণ করছেন, তিনি আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে নিজে যাকাত দিতে সক্ষম হবেন। তিনি আরও বলেন, মাস্তুল ফাউন্ডেশন যাকাতের মাধ্যমে দেশের অসংখ্য অসহায় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
বিআরটিএ- এর যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন -যাকাত যাদের উপর ফরজ হয়েছেন তারা যদি সঠিক ভাবে যাকাত প্রদান করেন আমি মনে করি আমাদের সমাজে আর বৈষম্য থাকবে না। আমি বেশ কয়েক বছর ধরে মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর সাথে সংযুক্ত আছি এবং প্রায়ই তাদের বিভিন্ন প্রকল্পে উপস্থিত থাকি। ব্যক্তিগতভাবে, আমি মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর সাফল্য কামনা করি।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, কাজী রিয়াজ রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন— "আমাদের প্রতিটি কাজের সন্তুষ্টি শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তা'য়ালার জন্য। মাস্তুল ফাউন্ডেশন প্রতিনিয়ত যাকাত তহবিলের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি, সমাজে যাদের উপর যাকাত ফরজ হয়েছে, তারা যদি সঠিকভাবে যাকাত আদায় করেন, তাহলে সমাজের যে বৈষম্য তা একদিন অবশ্যই দূর হবে, ইনশাআল্লাহ।"
এ সম্মেলনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল আল যাকাত সাদাকা ফাউন্ডেশন, সেন্ট্রাল ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক, আল মিনারাত ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস এবং রেডি বাংলাদেশসহ অনেকেই।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান। মাস্তুলের রয়েছে নিজস্ব স্কুল, মাদ্রাসা এবং শেল্টারহোম যেখানে আবাসিক/অনাবাসিক মিলে শতাধিক পিতামাতাহীন/ অনাথ/ এয়াতিম শিক্ষার্থী রয়েছে । এর বাহিরে কয়েক জেলায় প্রজেক্ট স্কুলগুলোতে হাজারের অধিক সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সকল শিক্ষার উপকরন দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পুষ্টিকর খাবার, শিশু অধিকার, মৌলিক চাহিদা নিশ্চয়তা করা হচ্ছে। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের রয়েছে সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করে তোলা হচ্ছে। এর বাহিরে যাকাত স্বাবলম্বী প্রজেক্টের মাধ্যমে ১০০০ জনকে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে দাফন-কাফন সেবা প্রজেক্ট, যার মাধ্যমে করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩০০০ এর অধিক লাশ দাফন হয়েছে। রয়েছে মাস্তুল মেহমানখানা, যেখান থেকে শতাধিক অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের একবেলা পেট পুড়ে খাওয়ার ব্যাবস্থা হয়।