
বুধবার ১৮ এপ্রিল ১৯৭৯। দু’দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোররাজী দেশাই। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম তাকে বিদায় জানাতে বিমান বন্দরে উপস্থিত। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্লেনে উঠে গেলেন দেশাই। বিমানের দরজা বন্ধ হওয়ার আগেই আবার সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলেন প্রধানমন্ত্রী দেশাই। প্রেসিডেন্ট জিয়ার সামনে গিয়ে তাঁর দু’কাধে হাত রেখে কানে কানে কিছু বললেন। তৎক্ষনাৎ প্রেসিডেন্টের মুখ মলিন হয়ে যায়। বোঝা গেলো না কেন এমন হলো, বা কি বলে গেলেন?প্রেসিডেন্টের নিকটস্থ কয়েকজন বিষয়টা লক্ষ করেন। কিন্তু কেউ আর এ নিয়ে কথা বলেননি। কিছুদিন পরে ফরেন মিনিস্টার অধ্যাপক শামসুল হক প্রেসিডেন্টের কাছে জানতে চাইলেন বিষয়টা কি? প্রেসিডেন্ট জিয়া বললেন, প্রাইম মিনিস্টার দেশাই বলে গেছেন, “Young man, ইন্দিরা গান্ধী আপনার বিষয়ে একটা ফাইল রেখে গেছেন ড্রয়ারে। ওটা আমি শেলভ করে রেখেছি। But, please look after yourself.” অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা করার একটি গোপন নির্দেশনা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর জন্য রেখে গিয়েছিলেন ইন্দিরা, আর সেটাই সরিয়ে রেখেছেন দেশাই।
পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী আবার প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলে দেশাইর শেলভ করা সেই নথি আবার টেবিলে আনেন, এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেন তা প্রতিপালনের বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সেই মোতাবেক মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ৩০ মে ১৯৮১ ভোরে । বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রর্বতক ও বাংলাদেশের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে হত্যা করে কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য। এতিম হয়ে যায় বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে কয়েকটি দালিলিক উদ্ধৃতি:
১) লে. রুশদের লেখা ”গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা- বাংলাদেশে ‘র’আগ্রাসী গুপ্তচরবৃত্তির স্বরূপ সন্ধান” পুস্তকের ৬২-৬৪ পাতায় এ বিষয়ে উল্লেখ আছে: মুজিব হত্যার পর থেকে ভারত প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যার ষড়যন্ত্র করে! কিন্তু এরই মধ্যে ভারতে ইন্দিরা গান্ধির পরিবর্তন হয়ে সরকারে আসে মোরাজ দি দেশাই। জিয়া হত্যার পরিকল্পনার কথা শুনে দেশাই সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠেন এবং হত্যা প্রজেক্ট বন্ধ করেন। পরে ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধি ফের ক্ষমতায় এলে প্রেসিডেন্ট জিয়া নির্মমভাবে নিহত হন।
২) ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা সুব্রামানিয়াম স্বামীর উদ্ধৃতি দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় ঋতু সারিন ১৫ মার্চ ১৯৮৯ লিখেন, “র’ই মূলত জিয়াকে হত্যা করেছে।”
৩) কলকাতার সানডে টাইমস পত্রিকা খবর লিখে, “ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির অনুমোদনক্রমে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে এবং নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে।”
৪) প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যার খবর প্রথম প্রকাশ করে আকাশবাণী আগরতলার একজন সাংবাদিক। কেননা দেশের ও বিদেশের কেউ জানার আগেই ভারতের কাছে খবরটি জানা ছিল।
৫) প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যার দায়ে দুই পলাতক সেনাকে কলকাতায় আশ্রয় দিয়ে ব্যবসা বানিজ্য করতে দেয় ভারত।
৬) জিয়া হত্যার পরে রাজনৈতিক সাপোর্ট যোগান দিতে ভারতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে এর আগেই দেশে পাঠানো হয় ১৭ মে। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী মতিয়ূর রহমান রেন্টু তার বইতে লিখেছেন, ২৩ ও ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক গোপন মিটিংয়ে আ’লীগ নেতা কর্নেল শওকত ৭১ ও ৭৫ এর যোদ্ধাদের জানান, চট্টগ্রামে গেলে রাষ্ট্রপতি জিয়াকে হত্যা করা হবে, এরপরে আ’লীগ কর্মীরা অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে বাংলাদেশের রেডিও টিভি সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখল করে নিবে।
৭) শেখ হাসিনা দেশের ফেরার তিনদিন পরে ভারত সৈন্যবাহিনী দিয়ে বাংলাদেশের তালপট্টি দ্বীপ দখল করে নেয়। যার ফলে ফেটে পড়ে বাংলাদেশের জনতা, কিন্তু নিশ্চুপ ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। প্রেসিডেন্ট জিয়া ভারতের হঠকারিতার কড়া প্রতিবাদ করেন এবং তালপট্টি দ্বীপ পুণর্দখলের ঘোষণা দেন। এর ১ সপ্তাহের মাথায় নির্মমভাবে নিহত হন জিয়া।
৮) বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যার একদিন আগে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারত অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করে।
৯) জিয়া হত্যার সাথে সাথেই শেখ হাসিনা ব্রাহ্মনবাড়িয়া দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করে বিডিআরের হাতে ধরা পড়েন।
১০) Limits of Diplomacy: Bangladesh নিবন্ধে ভারতীয় সামরিক বিশ্লেষক পার্থ সারথি ঘোষ ২৯ আগষ্ট ১৯৮১ Mainstream পত্রিকায় লিখেন, “শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের মধ্যেই ভারতের একটি শক্ত ভিত রয়ে গেছে। আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোনো দলকে তারা ভারতের স্বার্থ রক্ষাকারী দল হিসাবে মনে করে না। এবং আ’লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য তারা অনেক ‘গোপনীয়’ কাজ করেছে, যে ‘কাজের’ অন্যতম হলো প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা করা।

সেদিন কি ঘটেছিল চট্টগ্রামে?
১৯৮১ সালের ২৯ মে চট্টগ্রামে এক রাজনৈতিক সফরে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়া। চট্রগ্রাম মহানগর বিএনপি তখন দুই ভাগে বিভক্ত, এক অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন উপ-প্রধানমন্ত্রী জামাল উদ্দিন আহাম্মেদ, অন্য অংশের নেতৃত্বে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার সুলতান আহাম্মেদ চৌধুরী। বিরোধ মিমাংসার জন্য জিয়ার এ সফর। রাষ্ট্রপতি রাত্রিযাপন করেছিলেন সার্কিট হাউজে। কিন্তু ঐ সফরকে কেন্দ্র করে দেশী বিদেশী খুনীচক্র তাদের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটায়।
মুলত ঐ হত্যা পরিকল্পনা ছিল ভারতের। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির অনুমোদিত ঐ প্লান বাস্তবায়নের দায়িত্ব পরে ভারতের পুরোনো গোলাম বাংলাদেশের সেনাপতি এরশাদের উপরে। ২৯ তারিখে প্রেসিডেন্টের
সাথে সফরসঙ্গী হিসাবে সেনাপ্রধান এরশাদের যাওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রামে, কিন্তু তিনি কোনো কারণ ছাড়াই চিটাগাঙে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন।
প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা করতে সেনাপ্রধান এরশাদ তার আস্থাভাজন সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রামস্থ লে. কর্নেল মতিউর রহমানকে দায়িত্ব দেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ২৬ মে এরশাদ হঠাৎ করে চট্টগ্রাম সফরে যান বিএমএ পরিদর্শনের নাম করে। কিন্তু তিনি বিএমএতে না গিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে দিনভর গোপন মিটিং করেন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের সাথে, ঐদিন দুপরে লাঞ্চ ব্রেকে অফিসার্স মেসে লে. কর্নেল মতির সাথে লাঞ্চ সারেন এরশাদ। সেখানে মতি ব্যতিত আর কেউ উপস্থিত ছিল না। উল্লেখ্য লে. কর্নেল মতি ৩য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে এরশাদের অধীনে কাজ করেছিল। এই সাক্ষাতের ৪দিন পরে এই কর্নেল মতিই ব্রাশফায়ার করে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা করে। পরে অবশ্য পরিকল্পনা মাফিক মতিকেও হত্যা করে এরশাদের নির্দেশে আরেক গ্রুপ। জিয়াকে হত্যা করতে হলে একটা সেনাবিদ্রোহ দেখাতে হয়, এই কারণে পরিবেশ সৃষ্টি করতে এরশাদ কায়দা করে চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে ক্ষেপিয়ে তোলেন, রাষ্ট্রপতির সফরের দিনই তাকে অপমানজনক বদলী করে (ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড কলেজে), এই কলেজটি ছিল সিজিএসের অধীনে, যেখানে সিজিএস ছিলেন মঞ্জুরের ৩ বছরের জুনিয়র মেজর জেনারেল নুরুদ্দিন খান। ধুর্ত জেনারেল এরশাদ চাচ্ছিলেনই যেন জেনারেল মঞ্জুরকে প্রেসিডেন্টে জিয়ার বিরুদ্ধে আরও ক্ষেপিয়ে তোলা যায়। প্রেসিডেন্ট জিয়া যখন বিমানে তখন কাটা ঘায়ে নুনের শেষ ছিটা দিতে ধুর্ত এরশাদ জেনারেল মঞ্জুরকে ফোন করে বলেন যে, প্রেসিডেন্ট জিয়া চাচ্ছেন যেনো মঞ্জুর প্রেসিডেন্ট জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে এয়ারপোর্টে বা সার্কিট হাউজে না আসুক। এরফলে প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং জেনারেল মঞ্জুর দু’জন দুজনকে ভুল বুঝতে থাকে। অথচ প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং জেনারেল মঞ্জুর ছিলেন অনেক পুরোনা ঘনিষ্ট।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট পিএস লে.কর্নেল মাহফুজকে এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত করে তার বন্ধু লে.কর্নেল মতি। মূলত ২৯ তারিখে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সফর ছিল রাজশাহীতে, প্রেসিডেন্ট জিয়ার পিএস মাহফুজ ঐ প্রোগ্রাম বাতিল করে চট্টগ্রামে জরুরীভিত্তিতে কর্মসূচি দিয়ে লে. কর্নেল মতিকে জানিয়ে দেন। মতি তার লোকজন জুনিয়ার অফিসারদের ১৫/২০ জনের একটি দল নিয়ে তৈরি হতে থাকেন, যারা অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জিত করে ২৯ তারিখ দিবাগত রাত ৪টার দিকে সার্কিট হাউজে অভিযান চালায়। প্রথমে বাইরে থেকে মর্টার শেলিং করে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আঘাত করে দু’জনকে হত্যা করা হয়। এর আগে থেকেই সার্কিট হাউজের গেটের চাবি এবং রুম এলোকেশন মতিকে সরবরাহ করে প্রেসিডেন্টের পিএস মাহফুজ। আক্রমনের শব্দে প্রেসিডেন্ট ঘুম ভেঙে রুম থেকে বের হয়ে জানতে চান কি হয়েছে, ততক্ষণে নীচ থেকে উঠে এসে লে. কর্নেল মতি তার সাব-মেশিনগান থেকে ট্রিগার টেনে হত্যা করে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে। এভাবেই বাংলাদেশ হারায় তার দেশপ্রেমিক নেতাকে।
৩০ মে ১৯৮১, ঐ ভয়াবহ দিনটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে কত বড় হারানোর দিন ছিলো, তা নিজ অভিজ্ঞতায় এখনও অনুভব করি। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা বাংলাদেশ! শোক এবং নিজের উপলব্ধি একাকার হয়ে গিয়েছিলো- সেদিন মানুষ বাংলার কেবল তাদের প্রেসিডেন্টকে হারাননি, হারিয়েছিল স্বাধীন দেশের স্বপ্নকে, জাতির শ্রেষ্ঠ নেতাকে।
মরনশীল মানুষ জিয়া চলে গেছেন স্রষ্টার ডাকে, কিন্তু জনতার জিয়া রয়ে গেছেন সারাবাংলার ঘরে ঘরে, সাধারন মানুষের অন্তরে। তাই দেশে যখনই কোনো দৈব দুর্বিপাক আসে, তখনই বর্ষীয়ান মানুষেরা এখনও স্মরণ করে তাদের প্রেসিডেন্ট জিয়াকে। ‘৭১এর সেই দিকনির্দেশনাহীন জাতিকে পথ দেখাতে – ‘উই রিভোল্ট’ থেকে – আই মেজর জিয়া ডু হিয়ার বাই ডিক্লিয়ার – ‘৭৫এর জাতীয় মহাদুর্বিপাকে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা – দেশের দায়িত্ব নিয়ে পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ এবং সদ্য স্বাধীন দেশকে সঠিকভাবে টেক-অফ করাতে সফল হয়েছিলেন ক্ষণজন্মা পুরুষ জিয়াউর রহমান। তাই আজও দেশ যখনই কোনো রাজনৈতিক সংকটে নিপতিত হয়, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হয়, তখনই একজন জিয়াকে খুঁজে বাংলাদেশ।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকীতে মহান এ নেতার প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা। মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করি।
৪৪ বছরেও রহস্যজনক কারণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার বিচার হয়নি !
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচার রহস্যজনক কারণে ৪৪ বছরের হয়নি। অথচ এই হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপি তিন তিনবার সরকারে ছিল।
এই হত্যাকান্ডে প্রেসিডেন্ট জিয়াসহ ৮জন শাহাদত বরণ করে ছিলেন। নিহতরা হলেন ;
১।প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান
২।লেঃ কর্ণেল আ.ক.ম. মঈনুল আহসান
৩।ক্যাপ্টেন আশরাফুল হাফিজ খান
৪। নায়েক মোঃ আবু তাহের
৫। সিপাহী আবুল কাশেম
৬।সিপাহী আবদুর রউফ
৭।সিপাহী মোঃ শাহ আলম
৮। কনস্টেবল দুলাল মিয়া
অন্যদিকে প্রধান ঘাতক মেজর জেনারেল মঞ্জুরসহ ১৬ জন সামরিক অফিসার ও কিছু সংখ্যক সাধারণ সৈনিক ঘাতক দলে যারা ছিলেন তারা হলেন;
১। মেজর জেনারেল মঞ্জুর
২।লে. কর্নেল মতিউর রহমান
৩।মেজর স.ম. খালেদ
৪। লে. কর্নেল শাহ মোঃ ফজলে হোসেন
৫।মেজর মোজাফফর হোসেন
৬। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন
৭।ক্যাপ্টেন জামিল হক
৮।ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার
৮। লে. কর্ণেল মাহবুবুর রহমান
৯। মেজর কাজী মোমিনুল হক
১০।ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন আহমেদ
১১। ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইলিয়াস
১২। ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ
১৩।মেজর আ.জ. গিয়াসউদ্দীন আহমেদ
১৪।ক্যাপ্টেন সৈয়দ মোহাম্মদ মুনীর
১৫।মেজর ফজলুল হক
১৬।লে. রফিকুল হাসান খান ।
আপনার মতামত লিখুন :