
পলাশ চন্দ্র দাশ, স্টাফ রিপোর্টার
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী (গোকুলাষ্টমী নামেও পরিচিত) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এবার ১৬ আগস্ট ২০২৫ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫২তম জন্মদিন যথাযথ ভাব গাম্ভীর্যের সহিত সারা পৃথিবীতে পালিত হলো।
শাস্ত্রে আছে জন্মাষ্টমী ব্রত যে নিষ্ঠার সহিত পালন করে, তার এক কোটি একাদশী ব্রতের চেয়েও বেশি পুণ্য লাভ হয়। ভাদ্রপদ মাসে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে দুষ্টের দমন, সৃষ্টের পালন এবং ধর্ম রক্ষার লক্ষ্যে বাসুদেব পত্নী দেবকীর কোলে এক দুর্যোগময় রাতে জগত আলো করে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভক্তের প্রতি অসীম দয়াময়। ভক্তিপূর্ণ চিত্তে শ্রীকৃষ্ণের নাম নিলে বা কৃষ্ণ কথা শ্রবণ করলে অবশ্যই কৃষ্ণ কৃপা লাভ করা যায়। কলিযুগে মুক্তির একমাত্র সহজ উপায় হলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম সংকীর্তন করা। আর এই কৃষ্ণভক্তি লাভ করার উদ্দেশ্যে শুভাঢ্যা সার্বজনীন শ্মশানঘাট মন্দির কমিটির উদ্যোগে সারাদেশের ন্যায় যথাযথ ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যপূর্ণভাবে – শুভাঢ্যা সার্বজনীন শ্মশানঘাট মন্দিরে পালিত হয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা ও মঙ্গল শোভাযাত্রা।
শুভাঢ্যা সার্বজনীন মহাশ্মশানঘাট মন্দিরের প্রধান উপদেষ্টা ও গোপীনাথের আখড়া মন্দিরের সভাপতি, জে. কো. ব্যাটারি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের সত্বাধিকারী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শুভাঢ্যার সনাতনীদের প্রধান পথপ্রদর্শক বিমল চন্দ্র মন্ডল বলেন, আমাদের শ্মশানঘাট মন্দির কমিটির বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী একটি অন্যতম অনুষ্ঠান।
এই অনুষ্ঠানটিকে আরও বেশি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ করার জন্য এইবারই প্রথম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দুটি সর্ববৃহৎ মন্দিরকে (শুভাঢ্যা শ্মশানঘাট মন্দির ও গোপীনাথ আকড়া মন্দির) এক সুতায় গাঁথতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইতিহাসে এইবারই প্রথমবার গোপীনাথের আকড়া মন্দির হইতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে, আমরা র্যালি করে হাজার হাজার সাধু, গুরু, বৈষ্ণব ও ভক্তবৃন্দ নিয়ে আনন্দ মুখরিত পরিবেশে শুভাঢ্যা শ্মশানঘাট মন্দিরে সমবেত হয়েছি। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মধ্যে এই দুটি বৃহৎ মন্দিরের মধ্যে ধর্মীয় যোগসূত্রের বন্ধন দেখে কেরানীগঞ্জের সনাতনীরা অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। আগামী দিনগুলিতেও সবাইকে সুন্দর সুন্দর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই এবং শুভাঢ্যা শ্মশানঘাট মন্দির কমিটিকে আরো বেশি গতিশীল ও বেগবান করার লক্ষ্যে কাজ করার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন শুভাঢ্যা শ্মশানঘাট মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী সমীর চন্দ্র ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র দাস, সহ উপদেষ্টা হরেন্দ্র নাথ মজুমদার, সহ উপদেষ্টা পরেশ চন্দ্র সরকার (বুলু), সহ সভাপতি সাংবাদিক পলাশ চন্দ্র দাস, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট শেখর চন্দ্র দাস, কোষাধক্ষ্য কিরণ চন্দ্র বিশ্বাস, ধীমান সরকার, নন্দকিশোর সরকার, সুভাষ সরকার, কিশোর মন্ডল, এ্যাড. সুজন চন্দ্র দাস, উমেশ চন্দ্র দাস, রাজু মন্ডল, সুব্রত ঘোষ, পলাশ সরকার, রাজকুমার সরকার, সঞ্জয় ঘোষ, অতীশ দীপঙ্কর, বলরাম মন্ডল, রতন সরকার, শ্যামল, পিন্টু আরো অনেকে।
তারা বলেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মধ্যে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন হলো সবচেয়ে বড় একটি ইউনিয়ন। শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ১৬টি দুর্গা মন্দিরের ১৭ টি কমিটিকে সাথে নিয়ে এবং সকল সনাতনীদের সাথে নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ও মঙ্গল শোভাযাত্রা কেরানীগঞ্জের স্মরণকালের ইতিহাসে এক আলোকিত অধ্যায় সূচনা করলো। যা শুধু ভক্ত হৃদয়ে নয় কেরানীগঞ্জের জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে জানান দিলো সনাতনীদের ঐক্যবদ্ধতার এক নতুন ইতিহাস।অতীতে কখনোই হাজার হাজার সনাতনীএকসাথে রাজপথে এভাবে নেমে আসেনি। নতুন সম্ভাবনার এই অধ্যায়কে আমরা মনে প্রানে স্বাগত জানাই। আমরা ভবিষ্যতেও হাতে হাত রেখে কাঁধে কাঁধ রেখে অনেক সফলতার স্বপ্ন দেখতে চাই এবং স্বপ্নকে স্বপ্নই না রেখে বাস্তবে রূপদান করার দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই, এটাই আমাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে সকলের কাছে প্রত্যাশা।
আপনার মতামত লিখুন :