যশোরের শার্শায় ২০০ মৎস্যজীবি পরিবার বেকার, দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২১

শার্শা থেকে মোঃ আইয়ুব হোসেন পক্ষী:
সরকারি নির্দেশে যশোরের শার্শা উপজেলার রুদ্রপুর খালে মাছ ধরতে না দেয়ায় গ্রামের প্রায় দুইশত পরিবার বেকার জীবন যাপন করছেন। ফলে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে পরিবার গুলো।

রুদ্রপুর গ্রামের আব্দুল মালেক জানান, তার সংসারে ৮ জন সদস্য। মাছ ধরে ও বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। এক সপ্তাহ হলো তাদের জাল তুলে দেয়া হয়েছে বিল ও খাল থেকে। তারা এখন সম্পূর্ন বেকার জীবন যাপন করছেন। সংসার চলছে না তার। একই গ্রামের আকবর হোসেনের ৬ জনের সংসার। সেও মাছ ধরে জীবন ধারন করেন। রুদ্রপুরের শাহারুল, দাদখালীর তৈয়ব, ভবানীপুর গ্রামের পিন্টু ও আইউব আলীসহ প্রায় দুইশ পরিবার মাছ ধরে সংসার চালায়। খালে জাল দিতে না দেয়ায় তারা মাছ ধরতে পারছেন না। তারা এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ মাছগুলো খাল দিয়ে ভারতে চলে যায়। অথচ বিনা অজুহাতে তাদের মাছ ধরতে দেয়া হয় না।

রুদ্রপুর গ্রামের আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, জৈাষ্ঠ মাসের শুরু থেকেই এ অঞ্চলের খালে বিলে ভারতের নদ-নদীর উজানের পানি আসতে শুরু করে। এবং মাঘ মাস পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকে এলাকা। এতে করে সাত আট মাস যাবত খাল বিল পানিতে ডুবে থাকে। কোনো ফসল হয় না। এসময় প্রায় লোকই মাছ ধরে সংসার চালায়। মাছগুলি খাল দিয়ে ভারতে চলে যাবার পথেই এখানকার মৎস্যজীবিদের জালে আটকা পড়ে। কেবলমাত্র ত্রটিপূর্ণ সুইজগেটের কারনেই ভারতের উজান পানিতে ভরে যায় খাল বিল। জাল দিয়ে মাছ ধরার কারনে পানি বাধাগ্রস্ত হয়না বলেও তিনি জানান। এতে কোনো অসুবিধা হবার কথা নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, তারা মাছের পথ আটকে মাছ ধরার কারনেই তাদের জাল তুলে নিতে বলা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে খালে মাছ ধরলে কোনো আপত্তি নেই। তবে খালের এপাশ ওপাশ আটকিয়ে মাঝখানে জালপেতে মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্তা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, জালের দু‘পাশে মাছের যাতায়াতের রাস্তা অবশ্যই রাখতে হবে। ভ্যাসালি জাল ও খেপলা জাল দিয়েও মৎস্যজীবিরা মাছ ধরতে পারেন।