
বিজনেস ফাইল ডেস্ক
কাব্যের মৌসুমের সুবাদে লিখার সুযোগ হয়োছিলো আম্মাকে নিয়ে এই চিঠি।
অপরিসীম কৃতজ্ঞতা কাব্যের মৌসুমের প্রতি এবং কৃতজ্ঞতা আমার খুব প্রিয় মৌসুমী আপুকে যার পাঠে আরো আরো প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে আমার এই চিঠি।
প্রিয়,
আম্মা
তোমাকে কোন দিন সালাম দেইনি কেন জানি।
হয়তো মা, মেয়ের সম্পর্ক সালাম দেয়া নেয়ার নয়। কখনো লিখিনি তোমায় নিয়ে দু’লাইন।
এই যে আজ তোমাকে নিয়ে লিখছি তাও বলা হবেনা বা তুমি ও দেখবে না কখনো। রোজ নিয়ম করে কল দেয়া হয়না তোমায় বরং তোমার কলের অপেক্ষায় থাকি আর অভিমান পুষি মনে মনে। এ যেন অজন্ম কালের অধিকার তোমার উপর আমার।
জানো আম্মা আমি যখন ছোট ছিলাম তুমি কারো মেয়ে বাবু হলে খুব রাগ করতে আমার তখন খুব কষ্ট হতো মনে হতো তুমি মনে হয় আমার জন্ম হওয়াতে খুশি নও প্রচন্ড অভিমান হতো এই ভেবে।
তুমি শুধু ছেলে সন্তানদের ভালোবাসো মেয়েদের নয় বা আমি কি এমন করেছি জন্মে যে তুমি মেয়েদের পছন্দ কর না।
কিন্তু এখন যত বয়স হচ্ছে এর মর্ম কথা বুঝতে পারছি তত তুমি তোমার জীবন থেকে এবং পারিপার্শ্বিক অন্যান্য মেয়েদের অসহনীয় জীবন যুদ্ধ দেখে কষ্টে মেয়েদের পছন্দ করতে না।
তোমার সংসার জীবনটা এত সহজ ছিলো না।
আমাদের সংসারের বিভিন্ন দুঃসময় গুলোতে তোমাকে একা সবটা সামলাতে হতো অনেক যুদ্ধ করে সংসারটাকে আগলে রেখেছো তুমি।
আমরা তিন ভাই বোন এবং বাবার সব ভাই বোনদের সাথে নিয়ে।
তোমাকে দেখেছি খেয়ে না খেয়ে সবার খেয়াল রাখতে না অভাবে নয় দায়িত্বের বেড়াজালে সবটা মানিয়ে নিতে তোমার এই ত্যাগ।
আমি বড় সন্তান হওয়াতে তোমার জীবন যুদ্ধের অনেকটাই আমার দেখা মাঝে মধ্যে নিরবে ভাবলে মনে হয় একবার তোমাকে জড়িয়ে ধরে বলবো আম্মা তোমাকে খুব ভালোবাসি কিন্তু সামনে আসলে কেন জানি বলা হয়না।
তোমার শরিল খারাপে খুব মন খারাপ হয় অসহায় লাগে খুব…. তখন ও বলিনা ভালোবাসি!
বরং শাসনের গলায় বলি তোমার কিছু হলে কে দেখবে তোমায় এই হলো আমার ভালোবাসার প্রকাশ।
অথচ তুমি যত অসুস্থ থাক না কেন আমাদের কিছু হলে ব্যাকুল হয়ে যাও দোয়া করতে থাকো, কাছে এসে সেবা কর।
আম্মা তোমার চোখকে তো ফাঁকি দিতে পারিনা তুমি আমাদের চেহারা দেখে গলার আওয়াজ শুনে বুঝতে পারো আমাদের কিছু একটা হয়েছে তোমার মত করে কেউ বুঝতে পারেনা কেউ জিজ্ঞেস করেনা আম্মা। এই যে এত খাটি, সেবা করি দায়িত্ব পালন করি কেউ তো এভাবে জিজ্ঞেস করেনা কি হইছে তোর?
কই তোমাকে তো কোন দিন এত খেটে যত্ন, সেবা করিনি “মা “
সব ভালোবাসায় যে স্বার্থ থাকে
আম্মা তুমি না থাকলে আমাদের কে দেখবে? তুমি ছাড়া আমরা কি করে থাকবো কে চেহারার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করবে কি হয়েছে?
কোথাও যাওয়ার আগে বলবে সাবধানে যাস পৌঁছে ফোন দিস।
কে কিছু দিন বাড়ি না গেলে অস্থির হয়ে যাবে,
কখন আসবি বলে এমন তাড়া দেবে।
কষ্টে আছি জানলে বলবে আমার কাছে চলে আয়।
বাসায় গেলে তোমাকে কিছুক্ষণ ঘরে না পেলে ভালো লাগেনা আম্মা।
তুমি হীনা পৃথিবী শূন্য হয়ে যাবে আমার।
আম্মা আমি সারা জীবন স্বার্থপরের মত ভালোবাসবো তোমায় বলবো তুমি আমার জীবন দশায় সব সময় পাশে থেকো।
নিজের সংসার জীবনের পথ চলায় তোমার থেকে অনেক অনুপ্রাণিত হই সাহস যোগায় বাকিটা পথ চলার।
আম্মা তুমি দীর্ঘজীবী হও সুস্থ থাকো আমাদেরকে এমনি অগলে রেখো সারাজীবন।
মা তুমি আমাদের বেঁচে থাকার অক্সিজেন।
-ইতি
তোমার বড় মেয়ে।
আপনার মতামত লিখুন :