আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সম্প্রতি চোরের উপদ্রব্য আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এতে সলঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। পাহারাদার থাকা সত্যেও তাদের চোখ ফাকি দিয়ে বাজারে প্রায় রাতেই ঘটছে চুরির ঘটনা,চোরেরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে মুল্যবান মালামাল, সলঙ্গা বাজার বনিক সমিতি থেকে ৮ জন নৈশপ্রহরী থাকা সত্বেও পারছে না রাতের চুরি ঠেকাতে। জানা যায় গত কয়েক মাসে বাজারে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চুরির ঘটনা ঘটেছে, এতে চোরেরা কিছু দোকানের মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে আবার নৈশপ্রহরীদের উপস্থিতি টের পেলে মালামাল রেখে পালিয়ে যায়। ইতি মধ্যে বাজারে দোকানে চুরি হয়েছে,তার মধ্য আব্দুল খালেকের দোকান থেকে মেশিনারী পার্টস চুরি করে নিয়ে গেছে।
গত রবিবার (৬ জুলাই) আনুমানিক রাত ২ টার দিকে সলঙ্গা বাজার আব্দুর রহমানের ধানের চাতাল থেকে চোরেরা ৫০ কেজির ১০ বস্তা চাউল,দুইটি পানির পাম্প (মটর) একটি বড় স্ট্যান্ড ফ্যান চুরি করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সলঙ্গা বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু রেজা জুলফিকার রাঙ্গা বলেন,সলঙ্গা বাজারে আবারও কিছু পেশাদার চোর সক্রিয় হয়ে উঠেছে,সুযোগ পেলেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা কেটে মালামাল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, আমাদের বনিক সমিতি থেকে নৈশপ্রহরী নিয়মিত পাহারা দিচ্ছে কিন্তু এর মধ্যেও মাঝে মাঝে বিভিন্ন দোকানে চুরি সংঘটিত হচ্ছে। গত কয়েক বছর চুরি বন্ধ ছিল,তখন বাজার বনিক সমিতির পাহারাদারদের পাশাপাশি সলঙ্গা থানা পুলিশ নিয়মিত টহল দিতো এতে রাতে চুরি বন্ধ ছিল,এখন থানা থেকে টহল না দেওয়ার কারনে চোরের দৌরাত্ম বেড়ে গিয়ে চুরি সংঘটিত হচ্ছে,রাতের চুরি রোধে থানার সহযোগীতা চেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত রবিবার রাতে চুরির বিষয়ে সলঙ্গা থানার ওসি সাহেবের কাছে বনিক সমিতি থেকে গিয়ে চুরির সিসিটিভির ফুটেজ দেখানো হয়েছে।এবং বিগত ওসি সাহেবরা যে ভাবে সহযোগিতা করেছেন সেই সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে, তবে তিনি আমাদের এ বিষয়ে কোন সহযোগিতা দিবেনা এবং বাজারে চুরি হলে তার দায়ভার নেবেন না,তবে এ বিষয়টা আমরা জেলা পুলিশ সুপরারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
চাতাল মালিক আব্দুর রহমান বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কিছু মালামাল রাতে চুরি হয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আছে, এ বিষয়ে সলঙ্গা থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
রাতে সলঙ্গা বাজারে চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে, সলঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ হুমায়ন কবির বলেন, আমি শুনেছি গত ৬ জুলাই রবিবার রাতে নাকি আব্দুর রহমান নামে একজন ব্যবসায়ী ধানের চাতাল থেকে একটি পানির পাম্প (মটর) চুরি হয়েছে, তবে বনিক সমিতি থেকে কেউ আসেনি তারা কোন অভিযোগ দেয়নি,আমি নিজে বনিক সমিতির লোকজনকে ডেকেছি এখনও আমার কাছে আসেনি।আর সলঙ্গা বাজারে বনিক সমিতির কোন পাহারাদার নেই।
চুরির বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয় হবে বলে তিনি জানান।
সলঙ্গায় রাতের আধারে চোরের দৌরাত্ম্য আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা












Leave a Reply