
খাইরুল ইসলাম, নিকলী প্রতিনিধি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নিকলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩:৩০টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে , নিকলী নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায়,নিকলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্বক সমাবেশে বক্তারা বলেন—
“ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিদায়ের পর দেশবাসী আশা করেছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু জাতি হতাশ—গণহত্যা, দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের বিচার হয়নি। তাই আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।”
“নির্বাচন হতে হবে জুলাই সনদ অনুযায়ী আইনিভাবে এবং পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতিতে। গণতন্ত্র ধ্বংসে জড়িত আওয়ামী দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটকে নিষিদ্ধ করতে হবে। গণহত্যার বিচার করতে হবে, অন্যথায় এ দেশের মানুষ আর চুপ করে থাকবে না।”
“জামায়াত সবসময় ন্যায়ের পক্ষে থেকেছে” “জামায়াত সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। অতীতে যে কোনো স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকেছে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির।
ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ছাত্রসমাজ জামায়াতের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছে—এটাই তার প্রমাণ।
“যদি নির্বাচন নিয়ে নতুন কোনো ষড়যন্ত্র হয় বা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার চেষ্টা করা হয়, তবে জনগণ আর বসে থাকবে না। প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি জনপদে গড়ে উঠবে গণপ্রতিরোধ। এই আন্দোলন কেবল জামায়াতের নয়—এটি হবে গণতন্ত্র ও গণঅধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জাতীয় আন্দোলন।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী নিকলী উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল হোসেন, সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা সেক্রেটারি মোঃ রফিকুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন, ইসরাফিল সরকার, কর্মপরিষদ সদস্য, আব্দুল আল কাইয়ুম, সাবেক সভাপতি, মতিউর রহমান, সাবেক সভাপতি, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাহমানী,শূরা সদস্য, খাইরুল ইসলাম বকুল, সভাপতি, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ নিকলী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে শেষে সমাবেশটি নিকলী নতুন বাজার থেকে,পুরান বাজার হয়ে, প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে, উপজেলা চত্বর এসে শেষ হয়।এ সময় নারায়ে তাকবীর আল্লাহ আকবার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ, জুলাই গণহত্যার বিচার চাই বিচার চাই শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে নিকলী উপজেলার পরিবেশ। হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি, উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় নিকলী উপজেলা।
আপনার মতামত লিখুন :