Agaminews
Dr. Neem Hakim

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় হামলার শিকার সংখ্যালঘু পরিবার


দৈনিক বিজনেস ফাইল প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১১, ২০২৫, ১২:৪০ অপরাহ্ন /
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় হামলার শিকার সংখ্যালঘু পরিবার

বিজনেস ফাইল প্রতিবেদক
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া চৌরাস্তার হিজলতলায় ঝিলমিল হাসপাতালের পাশে মেইন রোডে প্রায় ১০০ শতাংশ জায়গা জুড়ে ঐতিহ্যবাহী গোসাইর বাড়ি অবস্থিত। ঐতিহ্যবাহী গোসাইর বাড়ির সুনাম পাকিস্তান আমল থেকেই নানা কারণে সমাদৃত। কিন্তু বর্তমানে এখানে ঘনবসতি হয়ে যাওয়ায় এই বিশাল বাড়িকে কেন্দ্র করে নানারকম অত্যাচার ও মাদকচক্রের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আর বর্তমানে তা চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে উক্ত বাড়ির ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানায় তারা বলেন তাদের সীমাহীন অত্যাচার পাকিস্তান আমল কেও হার মানিয়েছে।
কেবলমাত্র ধর্মীয় কারণেই এ ধরনের কান্ড ঘটনা হচ্ছে বারবার। এখন মনে হচ্ছে বাংলাদেশে জন্মই আমাদের জন্ম পাপ হয়েছে।
গত (৯ ই অক্টোবর ২০২৫) বৃহস্পতিবার উক্ত বাড়িতে এমনই একটি অমানবিক ঘটনা ঘটে। আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টায় মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাই বাজ, মাদক সেবনকারী, সন্ত্রাসী, নারী নির্যাতনকারী ও নানারকম অপকর্মের সাথে জড়িত এক নিকৃষ্ট ব্যক্তি অটো ফারুক গোসাইর বাড়িতে এসে পরিকল্পিতভাবে মা বোনদের উপর আক্রমণ করে এবং গায়ে হাত তুলে এবং গুরুতর আহত করেন।
পরবর্তীতে তারা মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা করে সুস্থ হন। তাদের অপরাধ ছিল একটাই অটো ফারুককে বাড়িতে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। অতীতেও বাড়িতে আসতে বাধা দিলে মা বোনদের সাথে অনেক ঝগড়া করেছে এবং অশ্লীল ভাষায় বকাবকি করেছে ও নানারকম হুমকি প্রদান করেছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জিয়া মঞ্চের সদস্য সচিব, শুভাঢ্যা মহাশ্মশান মন্দির কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শেখর চন্দ্র দাস এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক ও বর্তমান পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ও শুভাঢ্যা সর্বজনীন মহাশ্মশান মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি সাংবাদিক পলাশ চন্দ্র দাস বলেন- আমরা সনাতনীরা নানাভাবে লাঞ্ছিত, বঞ্চিত ও অবহেলিত।
কিছু দুষ্কৃতিকারী ও মাদক ব্যবসায়ী চক্রের কারণে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছি। দীর্ঘদিনের নানা প্রতিকূলতার সঠিক সমাধানের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি যেন আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারি।
ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষিকা জয়শ্রী দাস এবং পূর্ণ সত্য ললিত কলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও গানের শিক্ষিকা সীমা মন্ডল বিজনেস ফাইলকে জানান দীর্ঘদিন যাবৎ অনৈতিক কাজে লিপ্ত ও দুষ্কৃতিকারীদের কারণে অতিষ্ঠ জীবনযাপন পার করছি। অটো ফারুক তাদের মধ্যে অন্যতম একজন জঘন্য অপরাধী। যিনি সংখ্যালঘুদের উপর নানা রকম অন্যায়ের মূল খলনায়ক। এই অটো ফারুক গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা করে এবং আমাদের উপর তার দলবল নিয়ে আঘাত করে। এমনকি আমাদের গায়ে পরিহিত স্বর্ণের অলংকারও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাই আমরা বর্তমানে অত্যন্ত আতঙ্কিত এবং নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছি। আমাদের পরিবারের সবাইকে নিয়েও আমরা অনেক চিন্তিত। এখন মনে হচ্ছে এদেশে জন্ম নেয়াটাই আমাদের পাপ হয়েছে।
সংখ্যালঘু হিসেবে আমরা বর্তমান অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস’র কাছে আকুল আবেদন, আমরা সংখ্যালঘু মা বোনেরা যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারি এর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। নইলে আমাদের এদেশের নাগরিকত্ব বাতিল করুন।