
পলাশ দাস, স্টাফ রিপোর্টার
‘পথ নবজাতকেরা আপনজন, হবে না কোনো বিভাজন’-এ মানবিক শ্লোগানকে সামনে রেখে, পরিত্যক্ত নবজাতকদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও নিরাপদ পরিবারে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ডাঃ মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড মোড়ে অবস্থিত বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে (২৬ নভেম্বর) একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করলো। উদ্ধারকৃত ৫০তম নবজাতক মুগ্ধকে তার নতুন পরিবারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে। একই সাথে আরো দুজন ওয়ার্ল্ড প্রিম্যাচুরিটি ডে ২০২৫ উদযাপন ও তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশন তাদের পথনবজাতক ফারিশতা ও জোহরান’কে তাদের নতুন পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে ফাউন্ডেশনটি।
১৯ জুন, ২০২৫ আনষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলেও ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডাঃ মোঃ মজিবুর রহমান দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিত্যক্ত নবজাতকদের উদ্ধার ও চিকিৎসার কাজ করে আসছেন। ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পূর্বেই তিনি ৪১ জন পরিচয়হীন নবজাতককে উদ্ধার, চিকিৎসা এবং দত্তক প্রদানের মাধ্যমে নতুন জীবন উপহার দিয়েছেন। এ মানবিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সমাজের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় ডাঃ মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন-যা ৭ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত।
ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাহমুদা সুলতানা আসমা, যিনি একাধারে বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ট্রেজারার হিসেবে আছেন হাসপাতালটির পরিচালক শায়খা সুহাদা। এক্সিকিউটিভমেম্বার হিসেবে যুক্ত আছেন-প্রফেসর ডাঃ সুফিয়া খাতুন, বিভাগীয় প্রধান, পেডিয়াট্রিক বিভাগ, আশুলিয়া ওমেন অ্যান্ড চিলড্রেন হাসপাতাল ; মোঃ হুমায়ুন কবীর মঞ্জু, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; আমেনা খাতুন, যুগ্ম পরিচালক (অব.), ইন্টারনাল অডিট বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক; আবুল কাশেম, যুগ্ম পরিচালক (অব.), ব্যাংক ইনসেপশন ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ ফাউন্ডেশন পরিত্যক্ত নবজাতকদের বিষয়ে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এ কে এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ মোঃ মজিবুর রহমান। অতিথিবৃন্দ পথনবজাতকদের জন্য এ উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী মানবিক কর্মকান্ড হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এধরনের কাজে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মুগ্ধ, ফারিশতা ও জোহরান-তিনজনই জন্মের সময় মারাত্মকভাবে অসুস্থ ছিল। মুগ্ধের জন্মকালীন ওজন ছিল মাত্র ৭০০ গ্রাম, আর ফারিশতার ৯০০ গ্রাম। দীর্ঘ চিকিৎসা, যতœ এবং অকৃত্রিম মানবিক সেবার মাধ্যমে তারা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ্য। আজ তারা নিজেদের নতুন পরিবারের কাছে একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে গেল।
এ সময় সরকারের কাছে ফাউন্ডেশন নিম্নোক্ত দাবিগুলো তুলে ধরে-১. ১২ এপ্রিলকে জাতীয় পথ নবজাতক দিবস ঘোষণা; ২. দেশের প্রতিটি জেলায় নিউবর্ন হাব স্থাপন-যেখানে নাম-পরিচয় গোপন রেখে অনাকাঙ্খিত নবজাতক রেখে যেতে পারবেন; ৩. মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বিশেষায়িত পথ নবজাতক ইউনিট চালু এবং ৪. পরিত্যক্ত নবজাতকদের জন্য হিউম্যান মিল্ক স্টোরেজ সেন্টার প্রতিষ্ঠা।
অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, মানবাধিকার কর্মী এবং সাধারণ জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। এক মানবিক আবহে সম্পন্ন হওয়া এ অনুষ্ঠান বাংলাদেশে পথনবজাতকদের ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে সচেতন মহল মনে করেন।
আপনার মতামত লিখুন :