ঢাকা   ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে আবারো অজিত দোভালকেই বেছে নিলেন মোদি

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, জুন ১৪, ২০২৪
  • 40 শেয়ার

আজাহার আলী সরকার
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইসার বা এনএসএ) পদে টানা তৃতীয়বার অজিত দোভালকেই পুনর্বহাল করল নরেন্দ্র মোদির সরকার।
বৃহস্পতিবার সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ৭৭ বছরের দোভালের পুনর্নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। গত ১০ জুন থেকেই কার্যকর হয়েছে ওই নির্দেশিকা।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই সাবেক গোয়েন্দাকর্তা দোভালকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে নিয়ে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তারপর একে একে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উগ্রবাদ দমনে তার নেতৃত্বেই পদক্ষেপ করে সরকার।
২০১৬ সালে উরিতে উগ্র হানার পর তার নেতৃত্বেই পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছিল। সেই সময় যা মোদি সরকারের পক্ষে প্রবল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল।এরপর ২০১৭ সালে ডোকলামে ভারত-চিন যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় মূলত ডোভালের হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হয়।
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে উগ্রহানার পরে পাকিস্তানের বালাকোটে শিবিরে বিমানহানার নেপথ্যেও দোভালের মস্তিষ্ক ছিল বলে ভারত সরকারের একটি সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য , ১৯৬৮ সালে পুলিশে যোগদানের পর কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন কেরল ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজিত দোভাল।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার ছ’বছর পরই কীর্তিচক্র পেয়ে তিনি রেকর্ড গড়েছিলেন। গত শতাব্দীর ছয়ের দশকে মিজোরাম যখন বিচ্ছিন্নতাবাদের আগুনে জ্বলছিল, তখন তিনি বিদ্রোহী নেতা লালডেঙ্গাকে কার্যত শেষ করে দিয়েছিলেন।
১৯৮৯ সালে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে তিনি পাঞ্জাব পুলিশ ও এনএসজি-র যৌথবাহিনী নিয়ে অভিযান চালান। সেই অভিযান ‘অপারেশন ব্ল্যাক থান্ডার’ নামে পরিচিত। জঙ্গিদের প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল সেই অভিযানে।ওই অভিযানের পর দুঃসাহসিকতার পুরস্কার হিসেবে তাঁকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘কীর্তি চক্র’ শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়৷
রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সাবেক প্রধান এবং গোয়েন্দা সংস্থায় দোবালের জ্যেষ্ঠ সহকর্মী এ এস দুলত বলেন, ঝুঁকি নিতে দোবাল কখনোই কার্পণ্য করতেন না৷ এই সাহসিকতাই তাঁকে অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন কর্মকর্তা হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে৷
জে এন দীক্ষিত যখন পাকিস্তানে ভারতের হাই কমিশনার ছিলেন, তখন সেখানে কিছুদিন ছিলেন অজিত দোভাল।
১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে যখন ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান ছিনতাই করে জঙ্গিরা কান্দাহারে নিয়ে গিয়েছিল, তখন তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে রফাসূত্র বের করেছিলেন তিনি।
২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান পদ থেকে অবসর নেন। ২০০৯ সালে কর্নাটক সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। তার আগে ২০০৬ সালে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ হল ভারতের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজস্ব পছন্দ ছিলেন অজিত দোভাল। আসলে আইপিএস থাকায় তিনি দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে যেমন ওয়াকিবহাল, তেমনই বিদেশে কাজ করায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কেও ধারণা রয়েছে। এই দু’টি দিক বিচার করেই অজিত দোভালকে এই পদে নিয়ে আসা হল। এর আগে ব্রজেশ মিশ্র, জে এন দীক্ষিত, এম কে নারায়ণন প্রমুখ জাতীয় উপদেষ্টার পদ অলংকৃত করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০