ছোট গল্প: ‘আসাদ’

বিজনেস ফাইল ডেস্ক

আসাদের জন্ম কাকাতুয়ার এক ছোট্ট গ্রামে। সাত মেয়ের পর আাসাদের বাবা মা পেল আসাদকে, বরই আদরে বেড়ে উঠছে আসাদ। পড়ালেখা করেছে মাস্টার্স পরজনত, আধুনিক শিক্ষার পাল্লায় পরে বাড়ি ছারতে হয়েছে সেই পনের ষোল বয়সেই, স্কুলের হোস্টেল জীবন পারি দিয়ে চলে গেলো আসাদ কলেজে। কলেজ জীবন কাটে মেস আর হোস্টেল মিলে, কলেজ পারি দিয়ে গ্রাম ছেরে চলে গলো কাকাতুয়ার রাজধানীতে। নতুন পরিবেশ, আসাদকে মানিয়ে নিতে প্রাই বছরখানেক লেগে ছিলো। এই বছর খানেক সময়টাই আসাদের বসন্ত হলো, হাম এর লক্ষন, জন্ডিস এর লক্ষন, এই নতুন বাতাসটাকে আয়ত্ত পরে বেস ভালোভাবেই করে নিয়েছিলাম। এখন দূর গন্দ, ময়লা, আবর্জনা, গরম এগুলোর সাথে খাপখায়িয়ে নিয়েছি নিজেকে। অনেক মানুষ কাকাতুয়ার রাজধানীতে, আসলেই অনেক মানুষ এবং বিভিন্ন ধরন ও বর্নের মানুষ, অনেক গুলো ভায়া, কেউ বলছে সুধ্য বাংলা, কেহ বলছে ইংরেজি, আর নিজ নিজ আঞ্চলিক ভাষা তো আছেই, উর্দু ভাষার ও অনেক লোক। রাজধানীর সময়টা পুরোটাই মেসে মেসে থাকা হয়েছিল। এই নতুন শহরের সবকিছু দেখতে গিয়ে, ধরতে গিয়ে, খেতে গিয়ে বুঝেছি না এই শহর যা দেয় তার সব নেয়া যাবেনা। এখানে অনেক গুলো সংস্কৃতির মানুষের বসবাস। আমাকে আমার সংস্কৃতির মধ্যেই থাকতে হবে। রাজধানীতে কেটে গেলো তের চোদ্দ বছর। পড়ালেখা শেষ করে কয়েক দিন চাকরি করলাম। না মন বসে না কাজে, শহরটাকে ভালো লাগানোর বৃথা চেষ্টা আর কাজে লাগছেনা। যাই ফিরে চলি আপন গায়ে, এই শহর আমার জন্য না। আমি গ্রামের ছেলে গ্রামেই ভালো। শুরু করলাম ব্যবসা, করলাম বিয়ে, ঘড় আলোকিত করলো বড় মেয়ে রানি, বাবা আর নাই আসাদের। ২য় মেয়ে উরশিয়া আসলো।
আম্মার শরীরটা ও ভালো না। আসাদ নিজের বুঝটা সব সময় বেশি বোঝে, এই বেশি বোঝের জন্য আসাদকে দিতে হয়েছিল বড় মাসুল। তার পরিবার তাকে রিহাব সেনটারে পাঠাতে হয়েছিল। তারপর ও আসাদের সেলফিশ বেপারটা আর বেশি বোঝের বেপারটা রয়েই গেলো।
কয়েকদিন হলো ছোট মেয়েটার অসুখ ছারছেই না। ডাক্তার দেখালাম, অসুধ খাউয়াছি, না মেয়ে তো আমার ভালো হচ্ছে না। মেয়েকে নিয়ে চলে গেলাম শহরে, বড় ডাক্তার, বড় হাসপাতাল, অনেকগুলো পরিখ্যা করলো, সব কিছু দেখে তারা বললো। আপনার মেয়ের শরীরে একটি বিশেষ ধরনের রক্তর উৎপাদ করার খমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আপনার মেয়ে আস্তে আস্তে দূর্বল হয়ে মারা যাবে।
মেয়ে আমরা, আমার বুক ছাড়া ঘুমায় না, কি যে এক অনুভিতি, আমার লিখতেও হাত, মন শরীর কাঁপছে। আসাদ কি করছে, কি দেখছে কিছুই জানেনা। চোখ তো খোলা, হাত চলে, পা, শরীর সবই চলছে, মাথা ও মনে কি হচ্ছে এই জিনিসের কোনো অনুভ‚তি নাই। আসলেই তো মেয়ে আমার চলে যাচ্ছে, এই তো আমার দূই হাতের মধ্যেই তো কেমন চোখে যে তাকিয়ে আছে, আমার দিকে, কি যে এক অজাগতিক বেথা, এই বেথা এই জগতের না, যেই বেধায় আমার মেয়ে ধীরে ধীরে চুপ হয়ে যাচ্ছে, ঠিক এই বেধাই কি আমি পাই। দিন যাচ্ছে, রাত যাচ্ছে, আমি চলছি, খাচ্ছি, পরছি, সারা রাত জেগে থাকি, জাদু শোনার ঘুম ভেংগে যায়, কাঁদে, মেয়ের মা বড় মেয়ে, মা, সংসার সামলানো, আবার জাদু শোনাকে দেখা। আমার চোখ যা দেখে তা আমার চোখই দেখে, আমার মস্তিস্ক, আমার মন কই!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *