Agaminews
Dr. Neem Hakim

ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর নতুন উদ্ভাবন সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন


দৈনিক বিজনেস ফাইল প্রকাশের সময় : মে ২৬, ২০২৫, ৭:০৪ অপরাহ্ন /
ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর নতুন উদ্ভাবন সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন

পলাশ, স্টাফ রিপোর্টার
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা বিশেষত মিথেন গ্যাস নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি নির্ভর নতুন উদ্ভাবন নিয়ে এসেছেন জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী ও তার গবেষক দল। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আজ সোমবার (২৬ মে) সকালে এ উদ্ভাবন বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী।
রোম, কৃষাণ ফাউন্ডেশন, মেধা সম্পদ সুরক্ষা মঞ্চ ও জ্যাকিফ্রুট পোষ্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সাবেক সভাপতি ও বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফাহিম মাশরুর, পরিবেশ গবেষক পাভেল পার্থ, অমল ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ইসরাত করিম ইভা, কানিজ সুপ্রিয়া প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য দায়ী গ্রীনহাউস গ্যাসের অন্যতম মিথেনের বড় অংশ আসে গবাদি পশু অর্থাৎ গরু, ছাগল আর মহিষের পেট থেকে। এই জাবর কাটা প্রাণীগুলোর হজম প্রক্রিয়ার সময় ঢেঁকুর, নিঃশ্বাস ও বর্জের মাধ্যমে বিপুল মিথেন গ্যাস নিঃসরণ হয়। বৈশ্বিকভাবে প্রতিবছর এ ধরনের গবাদি পশু থেকে নির্গত হয় প্রায় ১০০ মিলিয়ন টন মিথেন। বাংলাদেশের গবাদি পশু খাত থেকেও প্রতিবছর প্রায় ৩০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য মিথেন নির্গত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান Loam Bio এর পক্ষ থেকে এই আবিষ্কার সম্পর্কে বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, তাদের উদ্ভাবিত বিশেষ ধরনের প্রাকৃতিক ছত্রাক, যা গবাদি পশুর হজম প্রক্রিয়ায় মিথেন উৎপাদন ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম। এই ছত্রাক কোনরকম জেনেটিক মডিফিকেশন ছাড়াই কাজ করে এবং পশুর স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে না। এটি পশু খাদ্যে ফিড অ্যাডিটিভ হিসেবে মেশালে কার্যত মিথেন নির্গমন বন্ধ হয়ে যায়।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে Biotechnology Reports জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা ইতোমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই আবিষ্কারের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে নতুন কোম্পানি-ROAM Agricultural । প্রতিষ্ঠানটির মডেল অনুযায়ী খামারিরাই ছোট ছোট ইউনিটে এই ছত্রাক উৎপাদন করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, ROAM কোম্পানির মালিকানার বড় অংশ মাত্র ৮ মিলিয়ন ডলারে বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত; বাংলাদেশেও এই সুযোগ নিতে পারে।
বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে সঠিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গবাদি পশু থেকে মিথেন নির্গমন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। বাংলাদেশ যদি মিথেন নির্গমন অর্ধেক কমাতে সক্ষম হয়, তাহলে এই ” সবুজ অর্থনীতি ” -র সম্ভাব্য বাজার মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার! উক্ত সংবাদ সম্মেলনে, তিনি এ উদ্ভাবন সম্বন্ধে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।