
মোশারফ হোসেন
কুষ্টিয়া কুমারখালীতে বিএনপির সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষের লোকজন এলাকায় মহড়া দেওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলায় বিএনপি তিনটি গ্রুপে বিভক্ত করেছে। গ্রুপ গুলো হলো, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আনছার প্রামানিক, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শেখ সাদী । তিন গ্রুপের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিলেও। বর্তমানে সার্চ কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। যা বড় ধরনের সংঘাতের দিকে যাচ্ছে বলে জানান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
দলের ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বিএনপির সার্চ কমিটির নামে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন, কমিটি গঠনের কাউন্সিলে পৌরসভার কর্মচারী ও স্বজনপ্রীতি, গঠন তন্ত্র অমান্য করে কমিটি গঠনের পায়তারাসহ নানান অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক এবং সদস্য সচিব লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুর পৌণে ১২ টায় কুমারখালী রেলস্টেশন সংলগ্ন আব্দুর রশিদ সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অনু্ষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা এমন অভিযোগ করেন। ব্যানার এবং প্রেস রিলিজ ছাড়াই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির একাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট এস এম শাতিল মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হাফিজুর রহমান, সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও খোন্দকার সামসুউদ্দিনসহ প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের হামলা, মামলা ও নির্যাতনের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ সকলে। দলীয় কার্যক্রম গতিশীল ও দলকে সুসংঠিত করতে চলতি বছরের ৫ জানু্য়ারি নুরুল ইসলাম আনছারকে আহবায়ক এবং লুৎফর রহমানকে সদস্য সচিব করে তিন মাসের জন্য ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা কমিটি। তাঁরা সম্পর্কে বিয়াই। উক্ত কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রথমে ওয়ার্ড কমিটি এবং পরে ইউনিয়ন কমিটি গঠন করবেন। সেই লক্ষ্যে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে ১১ টি সার্চ কমিটি এবং একটি কাউন্সিল কমিটি গঠন করেছেন দুই বিয়াই। তবে এতে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঢুকানো হয়েছে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছেন দুই বিয়াই।’
তারা আরো বলেছেন, ‘ কমিটি করার লক্ষ্যে গঠিত কাউনসিল কমিটিত আহবায়কের শ্যালক রাজু আহমেদ বিপ্লবকে প্রধান করা হয়েছে। যিনি কুমারখালী পৌরসভার উচ্চমান হিসাবরক্ষক। এছাড়াও এই কমিটিতে পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক মনিরুজ্জামান টুটুল এবং কর্মচারী সাইদুল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে। যারা আওয়ামী লীগের দোষর।’
দুই বিয়াই মিলেমিশে কুমারখালীর বিএনপিকে বিয়াই এ্যান্ড বিয়াই কোম্পানিতে পরিনিত করেছেন উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন, দলীয় কোনো কার্যক্রমে আহবায়ক ও সদস্য সচিব কমিটির অন্য নেতাকর্মীদের ডাকেন না। নিজেরায় তাদের আত্মীয় স্বজন ও পৌরসভার কর্মচারী দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করে বেড়াচ্ছে। এ সব বিষয়ে জেলা কমিটিতে লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে। দ্রুত উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি, সার্চ কমিটিসহ সকল কমিটি বাতিলের দাবি জানান তারা। না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারী দেন বক্তারা।
তবে সংবাদ সম্মেলনের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান। তিনি ফোনে বলেন, আহবায়ক আমার বিয়াই হয়। অভিযোগ করা নেতাদের অনু্ষ্ঠানে ডাকলেও তারা আসেননা। এখন মনগড়া অভিযোগ করছেন। সন্ধায় অফিসে আসেন বিস্তারিত বলা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির কর্মীরা বলেন, দলের মধ্যে সার্চ কমিটি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এতে করে আমাদের মতো সাধারণ কর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাঝে রয়েছি। নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সার্চ কমিটি দেওয়া হোক এটাই আমরা চাই। কুমারখালীতে তিন টি বিএনপির গ্রুপ রয়েছে। সব গ্রুপের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে যেকোনো ডিসিশন নিতে হবে। তা- না হলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
একইদিন কুমারখালী হল বাজারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম আনছার প্রামানিক তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে সব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সার্চ কমিটি করা হয়েছে। প্রতিটা ওয়ার্ডে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হচ্ছে। কারো কোন অভিযোগ থাকলে আমাদের লিখিতভাবে জানালে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি জানেন না জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন। তিনি বলেন, একটি অনু্ষ্ঠানে আছি। পড়ে বলা যাবে বিস্তারিত।
আপনার মতামত লিখুন :