কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অর্পিত সম্পত্তির খাজনা না নিয়ে উল্টো লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে।
উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের বানিয়াগ্রাম ৮ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
অভিযোগকারী মো. জয়নাল আবেদীনের (৬২) দাবি, প্রায় ৪৭ বছর আগে তার পিতা মো. আব্দুল বারিক সরকারি নিয়ম মেনে আনুমানিক ১৬০ শতাংশ ভূমি লীজ পেয়ে যথাযথ নিয়ম মেনে ভোগ দখলে থাকে। প্রায় ৩৫ বছর আগে মারা যান পিতা আব্দুল বারিক। তার পর থেকে জয়নাল আবেদীন ও তার ওয়ারিশানরা যথাযথ নিয়ম মেনে ডিসিআর কেটে ভোগ দখল করে আসছে। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খাজনা দিতে গেলে ভূমি সহকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাতে খাজনা নেন না। সাবেক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আনোয়ার খাজনা পরিশোধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় বিভিন্ন কৌশলে খাজনা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন জয়নাল আবেদীন।
উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা এসিল্যান্ড, ইউএনও ও জেলা কর্মকর্তার কাছে গিয়েও জমা দিতে পারেননি খাজনা।
পরবর্তীতে তিনি জেলা দেওয়ানী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
জয়নাল আবেদীনের দাবি, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মকর্তাদের কাছে বারবার অভিযোগ করার পরেও তিনি খাজনা দিতে পারছেন না।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান এসিল্যান্ড ও ইউএনও এ বিষয়ে সমাধানের জন্য জাকির হোসেন গং এর সাথে ফয়সালা করার জন্য উপদেশ নেন। জাকির গং এর সাথে আমার পারিবারিক সমস্যা নিয়ে মামলা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অর্পিত সম্পত্তিতে আমি পুকুর করে মাছ চাষ করে আসছি প্রায় সাত বছর ধরে। এই পুকুরে অর্পিত সম্পত্তি আছে ৫৮ শতাংশ। আমার নিজস্ব পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি আছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।
কিন্তু উপজেলা প্রশাসন পুকুরটি ইজারা দিয়ে দেয়। ইজারা পেয়েছেন তৌহিদুল ইসলাম দয়াল নামে এক ব্যক্তি। আমার নিজস্ব সম্পত্তিসহ পুরো পুকুরটিই তিনি ভোগদখলে আছে। নিয়মিত মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তিটুকু আলাদা করে ইজারা দেয়নি উপজেলা ভূমি অফিস।
খাজনা দিতে গেলে উপজেলা ভূমি অফিস আমাকে শ্রেণি পরিবর্তনের কারন দেখায়। অথচ আমার পার্শ্বেই আরো কয়েকজন আছে যারা শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর ও বাড়ী করার পরেও কান্দা শ্রেণিতেই নিয়মিত খাজনা দিচ্ছে। আমি অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় আমার প্রতি এ অবিচার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আদালতে মামলা চলমান থাকার পরেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে উপজেলা ভূমি অফিস ইজারা দিয়ে দেয় পুকুরটি। আমি যথাযথ নিয়ম মেনে খাজনা দিয়ে সম্পত্তি ভোগদখল করতে চাই। আমি এর যথাযথ আইনী প্রতিকার চাই।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, “এই ব্যক্তি ভিপি সম্পত্তিতে আইন বহির্ভূতভাবে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রী করেছে। তার লিজ বাতিল করা হয়েছে লিজের শর্ত ভঙ্গ করার জন্য। উল্টো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করে সে আমাদের হয়রানি করার চেষ্টা করছে”।
কটিয়াদীতে অর্পিত সম্পত্তির খাজনা না নেওয়ার অভিযোগ!












Leave a Reply