ঢাকার উত্তরার বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছ। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তিনি। এখনও ৬ জনের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি। উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে একজনের দেহাবশেষ রয়েছে। শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ স্যাম্পল নেওয়া হতে পারে।
তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও ৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার শিকারদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে, যাদের বয়স ১২ বছরের নিচে। তাদের বেশিরভাগেরই শরীরের বড় একটি অংশ দগ্ধ হয়েছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি তাদের বাঁচিয়ে রাখার।
এদিকে এর আগ আইএসপিআর জানায়, শনাক্তকৃত আটটি মরদেহ ইতোমধ্যে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের পরিচয় হল, ফাতেমা আক্তার (৯), পিতা: গনি শেখ, বাগেরহাট; সামিউল করিম (৯), বরিশাল; রজনী ইসলাম (৩৭), কুষ্টিয়া; মেহনাজ আফরিন হুরায়রা (৯), টাঙ্গাইল; শারিয়া আক্তার (১৩), পিতা: রফিক মোল্লাহ, ঢাকা; নুসরাত জাহান আনিকা (১০), ঢাকা; সাদ সালাউদ্দিন (৯), পিতা: মুকুল সালাউদ্দিন, মিরপুর, ঢাকা এবং সায়মা আক্তার (৯), পিতা: শাহআলম, গাজীপুর।
আইএসপিআর আরো জানায়, দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও প্রাণ হারিয়েছেন। তার মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ১ জন; জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৪৫ জন; ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন; সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ২৭ জন; উত্তরার লুবানা জেনারেল হাসপাতাল ও কার্ডিয়াক সেন্টারে ১০ জন; উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ১৬ জন; উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১ জন এবং শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এর আগে সোমবার (২১ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। এই ঘটনার পর বার্ন ইনস্টিটিউটে উপচে পড়া ভিড় ও জনসমাগমের কারণে আজ থেকে সেনাবাহিনী নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
এ বিমান দুর্ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (মঙ্গলবার সকাল ৮টা) নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭ জনে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৮ জন।












Leave a Reply