
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় রাজধানী আটটি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ১৭১ জন।তাদের মধ্যে অন্তত ৭০ জনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নেয়া হয়েছে। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনাস্থলের উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেছেন, আমাদের ব্লাড ব্যাংকে আপাতত রক্ত নেওয়া শেষ। আপাতত আর কেউ রক্ত দেবেন না। আমরা মানুষের আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে রক্ত নিয়েছি।
জানা যায়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই মডেলের যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আজ (সোমবার, ২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলার এ কে খন্দকার বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। তবে উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জনবিরল অঞ্চলে বিমানটি অবতরণের সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিমানটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। আহতদের মধ্যে অনেককে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ও অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), কুর্মিটোলা হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিমানবাহিনী প্রধান বর্তমানে সরকারি সফরে দেশের বাইরে থাকলেও সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন) এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার ও ব্যবস্থাপনায় তদারকি করছেন।
এ দুর্ঘটনায় বিমানবাহিনী গভীরভাবে শোকাহত বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। তারা হতাহতদের চিকিৎসা ও সার্বিক সহায়তায় তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক ক্ষুদে বার্তায় জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। এফএসসিডি, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিমান দুর্ঘটনার পর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জরুরি হটলাইন নম্বর ০১৯৪৯-০৪৩৬৯৭ চালু করা হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। আগামীকাল (মঙ্গলবার) শোক দিবস পালিত হবে। এরপর দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হবে। আহত ও নিহতদের জন্য সারাদেশে সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আজ বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।
এদিকে কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সবুজ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, স্কুলের দোতলা ভবনের প্রবেশ মুখে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তখন স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। কিছু শিক্ষার্থী বের হয়ে গেলেও অনেকে ভেতরেই ছিল। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরই আগুন ধরে যায়।
কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কতজন আহত ব্যক্তি
কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৮
বার্ন ইনস্টিটিউটে ৭০
ঢাকা মেডিকেলে ৩
সিএমএইচ-ঢাকায় ১৭
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১
লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার, উত্তরায় ১১
উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ৬০
উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১
৩৬ জনের পরিচয় শনাক্ত
দগ্ধদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৬ জনের পরিচয় শনাক্ত। জাতীয় বার্নে দগ্ধরা হলেন— ১. শামীম ইউসুফ (১৪) ২. মাহিন (১৫) ৩. আবিদ (১৭) ৪. রফি বড়ুয়া (২১) ৫. সায়েম (১২), ৬.সায়েম ইউসুফ (১৪), ৭. মুনতাহা (১১), ৮. নাফি (১০), ৯. মেহেরিন (১২), ১০. আয়মান (১০), ১১. জায়েনা (১৩), ১২. ইমন (১৭), ১৩. রোহান (১৪), ১৪. আবিদ (০৯), ১৫. আশরাফ (৩৭), ১৬. ইউশা (১১), ১৭. পায়েল (১২) ১৮. আলবেরা (১০), ১৯. তাসমিয়া (১৫), ২০.মাহিয়া (১৩), ২১. অয়ন (১৪), ২২. ফয়াজ (১৪), ২৩.মাসুমা (৩৮), ২৪. মাহাতা (১৪), ২৫. শামীম (১৭), ২৬. জাকির (৫৫), ২৭. নিলয় (১৪), ২৮. সামিয়া (১৪), ২৯. আরিয়ান (১২) ৩০. তৌফিক (১৩), ৩১. নূসরাত (১৩), ৩২. তানভীর আহমেদ (১৩)।
অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেলে যাওয়া চারজন হলো: রাইয়ান (১৪), জুনায়েদ (১১), জারিফ (১২) ও সবুজা বেগম (৪০)। এর মধ্যে জুনায়েদ মারা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :