
পলাশ চন্দ্র দাস, স্টাফ রিপোর্টার
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী শুভাঢ্যা ইউনিয়নে অবস্থিত শুভাঢ্যা সার্বজনীন মহাশ্মশানের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের (২৫ জুলাই ২০২৫ শুক্রবার) মাত্র ৯ দিনের মাথায় উক্ত মন্দিরের পরিধি উত্তর দিকে/পিছনের দিকে আরো বর্ধিত করার লক্ষ্যে মন্দির কমিটি প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার একটি বিশাল জায়গা ক্রয় করার জন্য সিদ্ধান্ত নেন এবং ১০ লক্ষ টাকা বায়না করেন। বিশাল পরিধি বিশিষ্ট শুভাঢ্যা মহাশ্মশান প্রাঙ্গণে উক্ত জায়গাটি ক্রয়ের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ শ্মশান মন্দির বলে দাবি করেন মন্দির কমিটি।
উক্ত সংবাদটি তৎক্ষণাৎ পুরো কেরানীগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরের দিন (৪ আগস্ট ২০২৫ সোমবার) বিভিন্ন সনাতনীরা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরাও দলে দলে চলে আসেন উক্ত মন্দির কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর জন্য।
এ সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গর্ব, আপন মহিমায় মহিমান্বিত, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সনাতনীদের একমাত্র আস্থা, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে পাঠায় তার পুত্রবধূ এড. নিপুন রায় চৌধুরীর মাধ্যমে।
ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিন কেরানীগঞ্জ বিএনপি’র সভাপতি এড. নিপুন রায় চৌধুরী বলেন – আমরা সনাতনীদের যে কোন সমস্যায় পাশে থাকতে চাই এবং উক্ত জায়গাটি ক্রয়ের জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় বিএনপি’র আরো অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নবগঠিত মন্দির কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জে. কো. ব্যাটারী ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের সত্বাধিকারী, বিশিষ্ট সমাজসেবক, শুভাঢ্যার সনাতনীদের প্রধান পথপ্রদর্শক বিমল চন্দ্র মন্ডল বলেন – আমাদের বিভিন্ন মহৎ উদ্দেশ্যের মধ্যে এই জায়গাটি ক্রয় করা ছিল একটি অন্যতম স্বপ্ন। যদি এই জায়গাটি বর্তমানে ক্রয় না করতাম তাহলে ভবিষ্যতে মন্দিরের ফান্ডে অনেক টাকা পড়ে থাকলেও জায়গাটি পেতাম না। যার জন্য চিরকাল আমাদের অনুশোচনা করে যেতে হতো। এখন এই জায়গাটি ক্রয়ের মাধ্যমে ” শুভাঢ্যা সার্বজনীন মহাশ্মশান ” পরিধির দিক থেকে বাংলাদেশের সবচাইতে বড় শ্মশান মন্দির বলে আমরা দাবি জানাই। আমাদের সামনের দিনগুলোতে আরো অনেক সুন্দর সুন্দর পরিকল্পনা রয়েছে উক্ত মন্দিরকে ঘিরে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উক্ত মন্দির কমিটির সভাপতি সমীর চন্দ্র ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র দাস, সহ উপদেষ্টা হরেন্দ্র নাথ মজুমদার, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. শেখর চন্দ্র দাস, সহ সভাপতি সাংবাদিক পলাশ চন্দ্র দাস, কোষাধ্যক্ষ কিরণ চন্দ্র বিশ্বাস, সুভাষ সরকার, নন্দকিশোর সরকার, অতীশ দীপঙ্কর, বিদূর দাস, পলাশ দাস, রাজ কুমার সরকার, বলরাম মন্ডল, পলাশ সরকার, নির্মল ঘোষ, রাজু মন্ডল, কিশোর মন্ডল, নির্মল মন্ডল প্রমূখ।
তারা বলেন – দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মধ্যে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন হলো সবচেয়ে বড় একটি ইউনিয়ন। শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ১৬ টি দুর্গা মন্দিরের ১৭ টি কমিটিকে সাথে নিয়ে তৈরি হয় প্রায় ১ হাজার সদস্য বিশিষ্ট বৃহৎ এক শক্তিশালী কমিটি “শুভাঢ্যা সার্বজনীন মহাশ্মশান মন্দির কমিটি “। শুভাঢ্যার সনাতনীদের সকল সমস্যার সমাধান উক্ত মন্দির কমিটির মাধ্যমে আমরা করতে চাই। এখন একটা নির্দিষ্ট প্লাটফর্মের মধ্যে শুভাঢ্যার সনাতনীদের আনতে পেরেছি বলে আমাদের বিশ্বাস। রাজনৈতিকভাবেও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মধ্যে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এই ইউনিয়নে যে দল এগিয়ে থাকে সেই দলই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকে এবং জয়যুক্ত হয়। কাজেই আমাদের সনাতনীদের নিরাপত্তা বিধান এবং ধর্মীয় কাজে যারা সহযোগিতা করবেন আমরা সবাই একসাথে তাদের পাশেই থাকতে চাই।
তারা আরো বলেন – বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের ১৬ বছরে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু একবারও আমাদের কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেখতেও আসেনি। অথচ বর্তমানে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নির্দেশে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিএনপি’র সভাপতি এড. নিপুন রায় চৌধুরী বারবার চলে আসেন সনাতনীদের সুখ-দুঃখের সাথী হতে এবং খবরাখবর নিতে। এড. নিপুন রায় চৌধুরী সনাতনীদের মনের অন্তস্থলে একটি আস্থার জায়গা তৈরি করে নিয়েছে বলে তাদের দাবি। মন্দির কমিটির অনেক নেতৃবৃন্দ বলেন আমরা কোন দলের কাছে কোন কিছু চাই না, আমাদের সুখ-দুঃখে যে দল পাশে দাঁড়াবে আমরা তাকেই ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করব এটাই আমাদের মন্দির কমিটির অঙ্গীকার এবং দল মত নির্বিশেষে সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানায় তারা।
আপনার মতামত লিখুন :